ধ্বংসের মুখে স্বাস্থ্যসেবা খাত
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ১২ চিকিৎসাকর্মী নিহত
প্রকাশিত: মার্চ ১৫, ২০২৬, ১২:৩৯ রাত
ছবি: সংগৃহিত
দক্ষিণ লেবাননের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১২ জন চিকিৎসাকর্মী নিহত হয়েছেন। চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশটির স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গুরুতর হুমকির মুখে পড়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার গভীর রাতে বিনত জবেইল জেলার বুর্জ কালাউইয়াহ গ্রামে অবস্থিত একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এই হামলা চালানো হয়। এতে দায়িত্ব পালনরত চিকিৎসক, প্যারামেডিক ও নার্সসহ মোট ১২ জন প্রাণ হারান। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে আহতদের চিকিৎসা চলছিল বলে জানানো হয়েছে।
লেবাননের কর্তৃপক্ষের দাবি, এই হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। তারা বলছে, ফিলিস্তিনের গাজায় যেভাবে হাসপাতাল ও চিকিৎসাকর্মীদের লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ উঠেছিল, লেবাননের ঘটনাটি সেই একই উদ্বেগজনক প্রবণতার পুনরাবৃত্তি মনে করিয়ে দিচ্ছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের শনিবারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২৬ জন প্যারামেডিক নিহত এবং আরও ৫১ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া উদ্ধারকাজে নিয়োজিত অ্যাম্বুলেন্স কর্মীদের ওপরও একাধিকবার হামলার অভিযোগ উঠেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায়। ওই সময়ের পর থেকে কেবল লেবাননেই এখন পর্যন্ত ৭৭৩ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
বৈরুত থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি হেইডি পেট জানান, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। অনেক মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন এবং বিভিন্ন স্থানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। রাজধানী বৈরুতসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলা চলছেই।
এদিকে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা উত্তর ইসরায়েলের ইয়া’আরা শহরে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে একটি ‘সুইসাইড ড্রোন’ হামলা চালিয়েছে। শুক্রবার একদিনেই তারা মোট ২৪টি সামরিক অভিযানের দাবি করেছে।
গোষ্ঠীটি দক্ষিণ লেবাননের কাফর কিলা ও খিয়াম শহর থেকেও রকেট হামলা চালিয়েছে বলে জানায়।
হিজবুল্লাহর উপপ্রধান নাঈম কাসেম শুক্রবার রাতে দেওয়া এক ভাষণে বলেন, “এটি কোনো সাধারণ সংঘাত নয়; এটি অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য আমরা প্রস্তুত।”
উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক তৎপরতাও শুরু হয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট Emmanuel Macron যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছেন।
তিনি বলেন, লেবাননের নেতৃত্ব ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইসরায়েলকে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে হিজবুল্লাহকেও সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন ম্যাক্রোঁ। তার মতে, লেবাননকে চরম অস্থিতিশীলতা থেকে রক্ষা করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
অন্যদিকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও অব্যাহত রয়েছে। শনিবার বিকেলে জেরুজালেমসহ উত্তর ইসরায়েলের গ্যালিলি অঞ্চলে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে এবং শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ইরান গত এক সপ্তাহ ধরে ‘ক্লাস্টার মিসাইল’ বা গুচ্ছ-ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে বিস্ফোরিত হয়ে অসংখ্য ছোট সাব-মিউনিশন ছড়িয়ে দেয়, যা বিস্তৃত এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারে।
প্রতিটি সাব-মিউনিশনে প্রায় ২ দশমিক ৫ কেজি বিস্ফোরক থাকে বলে সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা। ফলে বড় এলাকাজুড়ে একসঙ্গে আঘাত হানতে সক্ষম এই অস্ত্রগুলো ঠেকাতে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেও বাড়তি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। সূত্র: আল-জাজিরা
বাংলাধারা/এসআর
