ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

সংসদে রাষ্ট্রপতি: হাজারো শহীদের রক্তে ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: মার্চ ১২, ২০২৬, ১০:০১ রাত  

ছবি: সংগৃহিত

দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেন, হাজারো শহীদের আত্মত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত একটি নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানান এবং দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় সংসদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, এই আন্দোলনে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত বা পঙ্গুত্বের শিকার হয়েছেন এবং পাঁচ শতাধিক মানুষ তাদের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার ইতোমধ্যে ১ হাজার ২৪৩টি স্বাস্থ্য কার্ড প্রদান করেছে। গুরুতর আহত ১৩৭ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, দেশের ৬৪ জেলায় শহীদদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ এবং ঢাকায় ‘জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ প্রতিষ্ঠার কাজ চলমান রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সংসদ দেশের গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে তিনি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে গণতন্ত্রের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তিনি দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং রাজনৈতিক জীবনে আপসহীন নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে এবং আগামী দিনগুলোতে তা আরও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া ২০২৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৪ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

ব্যাংক খাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে একটি অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন গঠন করা হবে। পাশাপাশি পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একটি পৃথক কমিশন গঠনের কথাও জানান তিনি, যা পূর্ববর্তী শাসনামলে সংঘটিত অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্ত করবে।

বাংলাধারা/এসআর