জ্বালানি সংকটে বিকল্প খুঁজছে এশিয়া, মার্কিন তেল-গ্যাসের চাহিদা বাড়ছে
প্রকাশিত: মার্চ ১১, ২০২৬, ১০:২৫ দুপুর
ছবি: সংগৃহিত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকছে এশিয়ার দেশগুলো। ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্ববাজারে এখন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানির চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান আর্গাস মিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে এশিয়ায় সরবরাহ হওয়া মার্কিন ‘লাইট সুইট ক্রুড’ তেলের দাম প্রায় ৪৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের ভাড়াও প্রায় চার গুণ বেড়ে গেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ইউরোপমুখী অন্তত চারটি এলএনজিবাহী জাহাজের গন্তব্য পরিবর্তন করে সেগুলো এশিয়ার দিকে পাঠানো হয়েছে।
আর্গাস মিডিয়ার এশিয়া অঞ্চলের প্রধান ফাবিয়ান এনজি জানান, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই জাপানের তেল শোধনাগারগুলো বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করতে মার্কিন অপরিশোধিত তেল কেনা শুরু করেছে। তিনি বলেন, আগামী জুনে সরবরাহের জন্য জাপানি ক্রেতারা ইতোমধ্যে প্রায় ৯০ লাখ ব্যারেল মার্কিন তেল কিনেছে। তবে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে থাকায় এশিয়ার অনেক দেশ এখনই বড় চুক্তিতে না গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
এদিকে এশিয়ার দেশগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশ জ্বালানি আসে হরমুজ প্রণালি হয়ে। এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা বেড়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, মঙ্গলবার ওই জলপথের কাছাকাছি এলাকা থেকে ইরানের ১৬টি মাইন স্থাপনকারী জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, প্রণালিতে মাইন স্থাপনের চেষ্টা করলে তার পরিণতি ভালো হবে না।
সংঘাতের কারণে জ্বালানির প্রধান উৎস থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলো আপাতত নিজেদের মজুত তেলের ওপর নির্ভর করছে। তবে এই মজুত বড়জোর কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে জ্বালানি গবেষণা সংস্থা এনার্জি অ্যাসপেক্টসের বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে মধ্যপ্রাচ্যের তেলের যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পূরণ করার মতো উৎপাদন সক্ষমতা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নেই। সংস্থাটির বিশ্ব গ্যাসবিষয়ক প্রধান লিভিয়া গ্যালারাতি বলেন, এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় এশিয়ার অনেক দেশ এখন মজুত করা জ্বালানি ব্যবহার করছে। পাশাপাশি কেউ কেউ গ্যাসের পরিবর্তে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার কিংবা শিল্পকারখানায় উৎপাদন কমিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।
বাংলাধারা/এসআর
