ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ড
ফয়সালকে পালাতে সহায়তার অভিযোগে ফিলিপ ভারতে গ্রেফতার
প্রকাশিত: মার্চ ১৫, ২০২৬, ১২:৪৮ রাত
ছবি: সংগৃহিত
ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদকে অবৈধভাবে ভারতে পালাতে সহায়তা করার অভিযোগে বাংলাদেশি নাগরিক ফিলিপ সাংমাকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ।
শনিবার ভোরে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) রাজ্যের শান্তিপুর বাইপাস এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টু-ডে জানিয়েছে, বাংলাদেশে সংঘটিত শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারে সহায়তার অভিযোগেই ফিলিপ সাংমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশন কলকাতা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, কলকাতা পুলিশ তাদের কাছে পাঠানো এক বার্তায় নিশ্চিত করেছে যে ফিলিপ সাংমা (৩০) নামে এক বাংলাদেশি নাগরিককে পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতার ব্যক্তির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে কলকাতা পুলিশের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন। একই সঙ্গে ভারত সরকারের কাছে কনস্যুলার অ্যাকসেস চাওয়া হয়েছে।
গত বছরের ডিসেম্বরে ঢাকায় ৩২ বছর বয়সী শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাংমার গ্রেপ্তারকে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফ। তদন্তকারীদের ধারণা, প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদকে ভারতে পালিয়ে যেতে সহায়তায় সাংমা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
এর আগে গত ৮ মার্চ অবৈধ অনুপ্রবেশ ও ভারতে অবস্থানের অভিযোগে ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেন নামে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে বনগাঁও সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফ সদস্যরা তাদের আটক করেন। তদন্তে উঠে আসে, তারা দুজনই শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
এসটিএফ সূত্র জানিয়েছে, ফয়সাল ও আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদের পরই ফিলিপ সাংমার নাম সামনে আসে। জিজ্ঞাসাবাদে ফয়সাল দাবি করেন, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট এলাকার বাসিন্দা ফিলিপ সাংমার সহায়তায় তিনি মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার ভোরে শান্তিপুর বাইপাস এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাংমা অর্থের বিনিময়ে হালুয়াঘাট ও মেঘালয়ের ডালুপাড়া এলাকার মধ্যে একটি আন্তঃসীমান্ত মানবপাচার নেটওয়ার্ক পরিচালনার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সীমান্তের বনাঞ্চল ব্যবহার করে মানুষকে অবৈধভাবে দুই দেশের মধ্যে পারাপার করানো হতো।
তদন্তকারীদের কাছে সাংমা স্বীকার করেছেন যে তিনি ফয়সাল ও আলমগীরকে মেঘালয়ের বনাঞ্চল হয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকতে সহায়তা করেছিলেন।
পুলিশের দাবি, বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চাপ বাড়তে থাকায় পরবর্তীতে সাংমা নিজেও ভারতে পালিয়ে যান। গ্রেপ্তারের সময়ও তিনি ফয়সাল ও আলমগীরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন এবং তাদের পুনরায় অবৈধভাবে বাংলাদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
গ্রেফতারের পর শনিবার ফিলিপ সাংমাকে আদালতে হাজির করা হয়। তদন্তের স্বার্থে তাকে হেফাজতে নেওয়ার জন্য এসটিএফ যে আবেদন করেছিল, আদালত তা মঞ্জুর করেছেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্তজুড়ে এই পাচার নেটওয়ার্ক কতটা বিস্তৃত এবং এর সঙ্গে অন্য কোনো অপরাধচক্র জড়িত রয়েছে কি না- তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার সন্দেহভাজনদের গতিবিধি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পেতেও সাংমার জবানবন্দি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
বাংলাধারা/এসআর
