ঢাকা, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২

নির্বাচনে আর কোনো ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ হবে না: নির্বাচন কমিশনার মাছউদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২৬, ০৭:১৩ বিকাল  

ছবি: সংগৃহিত

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশে যথেষ্ট সহায়ক পরিবেশ বিরাজ করছে এবং এবার কোনো ধরনের ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ হওয়ার সুযোগ নেই। নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রংপুর সার্কিট হাউজে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ইসি মাছউদ বলেন, আমরা মাঠপর্যায়ে নিয়মিত যাচ্ছি এবং সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। জাতিকে একটি ভালো নির্বাচন উপহার দিতে রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত প্রায় ১৮ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ বাহিনী, বিজিবি, সেনাবাহিনী ও আনসার সদস্যরা সবাই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তাদের মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের মানসিকতা স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এবার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও তুলনামূলকভাবে ভালো রয়েছে। দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ওপর কোনো ধরনের চাপ নেই। তবে নির্বাচনকে আরও সহজ ও গ্রহণযোগ্য করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। নির্বাচনবিরোধী যেকোনো কার্যক্রমের বিপক্ষে নির্বাচন কমিশন অবস্থান নিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার জানান, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ ও ভোটের সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। বড় দুই রাজনৈতিক দলের নেতারা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মেনে চলছেন। কমিশনের অনুরোধে পোস্টার অপসারণ, সফর বাতিলসহ বিভিন্ন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো সহযোগিতা করছে, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আশাব্যঞ্জক।

রাজনৈতিক বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলগুলোর নেতারা একে অপরের বিরুদ্ধে যে বক্তব্য দিচ্ছেন, তা মূলত ভোটযুদ্ধের অংশ এবং রাজনৈতিক কৌশল। তবে সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা দেশের সব ধরনের সহিংসতা ও হত্যার ঘটনার নিন্দা জানাই।

এ সময় শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনার বলেন, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।

মতবিনিময় সভায় জেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল, ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম, নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সদস্য এবং রংপুর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটরা অংশ নেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন, রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান, জেলা পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইন, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার তোফায়েল হোসেনসহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বাংলাধারা/এসআর