ঢাকা, রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২

যৌন হয়রানির অভিযোগে বেরোবির দুই শিক্ষক সাময়িক বহিষ্কার 

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২৬, ১০:৪২ রাত  

ছবি: সংগৃহিত

যৌন হয়রানির গুরুতর অভিযোগে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) দুই শিক্ষককে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শনিবার (সন্ধ্যা) অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১৯তম সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।

সাময়িক বহিষ্কার হওয়া শিক্ষকরা হলেন- ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সহকারী প্রক্টর মো. শামীম হোসেন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শাকিবুল ইসলাম।

সিন্ডিকেট সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাময়িক বহিষ্কারের পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শাকিবুল ইসলামের ওপর অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, তিনি ভবিষ্যতে কখনোই কোনো ছাত্রীকে সুপারভাইজার হিসেবে তত্ত্বাবধান করতে পারবেন না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি প্রতিরোধ সেলের দায়িত্বে থাকা ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. ইলিয়াস প্রামানিক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় দুই শিক্ষককে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ড. শাকিবুল ইসলামের ক্ষেত্রে ছাত্রী সুপারভিশনের ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো. হারুন অর রশীদ জানান, সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটি অভিযোগের ভিত্তিতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে। তিনি বলেন, দুই শিক্ষককে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে ন্যস্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল থেকে চূড়ান্ত ও সুনির্দিষ্ট শাস্তি নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত তারা সাময়িকভাবে বরখাস্ত অবস্থায় থাকবেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের এক ছাত্রী ৩১ পৃষ্ঠার একটি লিখিত অভিযোগপত্রে সহকারী অধ্যাপক মো. শামীম হোসেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে যৌন হয়রানির বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন। অপরদিকে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক শিক্ষার্থী সহযোগী অধ্যাপক ড. শাকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধেও যৌন হয়রানির অভিযোগ দায়ের করেন।

এই ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষক মহলের একাংশ অভিযোগের দ্রুত ও স্বচ্ছ নিষ্পত্তি এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আইন ও বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাধারা/এসআর