সিরিয়া অধ্যায়ের ইতি টানছে যুক্তরাষ্ট্র: ধাপে ধাপে সব সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬, ০৯:৩৯ সকাল
ছবি: সংগৃহিত
প্রায় এক দশক পর সিরিয়া থেকে সব সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইতোমধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি সামরিক ঘাঁটি খালি করে সেটি সিরিয়ার সরকারের কাছে হস্তান্তর করেছে মার্কিন বাহিনী। বিষয়টি জানিয়েছে রয়টার্স, যারা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এর তথ্যের ভিত্তিতে।
যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে সিরিয়া জুড়ে। এসব ঘাঁটি স্থাপন করা হয়েছিল প্রায় এক যুগ আগে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) এর উত্থানের সময়। ২০১৪ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ এর শাসনামলে গৃহযুদ্ধের মধ্যে আইএস দ্রুত শক্তিশালী হয়ে সিরিয়া ও ইরাকের বিস্তীর্ণ অঞ্চল দখল করে নিজেদের তথাকথিত রাষ্ট্র ঘোষণা করেছিল। তখন এই গোষ্ঠীকে দমন করতে আন্তর্জাতিক জোটের অংশ হিসেবে সিরিয়ায় সেনা পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র।
তৎকালীন সময় প্রায় ২ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল। বর্তমানে দেশটির বিভিন্ন ঘাঁটিতে আনুমানিক এক হাজার সেনা রয়েছে, যাদের সবাইকে ধাপে ধাপে ফিরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেন, আইএস এখনও বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হলেও পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেক বদলেছে। তার ভাষায়, সিরিয়ায় এখন তুলনামূলক স্থিতিশীল সরকার রয়েছে এবং আইএসের কার্যক্রম আগের মতো শক্তিশালী নয়। ফলে সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে একদল সেনা ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং একটি ঘাঁটি স্থানীয় সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, আইএস বা অন্য কোনো জঙ্গি হুমকি দেখা দিলে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে মার্কিন বাহিনী প্রস্তুত থাকবে।
দীর্ঘদিনের সামরিক উপস্থিতির পর সিরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার কেবল একটি সামরিক পদক্ষেপ নয়, এটি আঞ্চলিক রাজনীতি, নিরাপত্তা কৌশল এবং আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্যে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
বাংলাধারা/এসআর
