ঢাকা, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২

কার্যকর প্রতিষ্ঠান ছাড়া শক্তিশালী রাষ্ট্র নয় : মির্জা ফখরুল 

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬, ০৯:২৬ রাত  

ছবি: সংগৃহিত

কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানই একটি শক্তিশালী ও উন্নয়নমুখী রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তি বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, একটি সফল রাষ্ট্র বিনির্মাণে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র, এই তিন স্তরের সমন্বিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বাংলাদেশ সচিবালয়-এ স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ভিন্নমত ও বিভেদ ভুলে সবাই একটি টিম হিসেবে কাজ করলে উন্নয়ন, সুশাসন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব। তার ভাষায়, দেশের বর্তমান সরকার একটি দুর্বল অর্থনীতি ও ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্রব্যবস্থার ওপর দাঁড়িয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ করছে। তাই পুনর্গঠন কার্যক্রমকে টেকসই করতে সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, জনগণের করের অর্থে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়, তাই জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। গত দেড় দশকে দুর্বল বা আস্থাহীন হয়ে পড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকার ইতোমধ্যে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। তার মতে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা মানে শুধু প্রশাসনিক কাঠামো ঠিক করা নয়, বরং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা।

গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দুর্দশার প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, গ্রামের মানুষের কষ্ট লাঘব করা রাষ্ট্র, সমাজ ও সচেতন নাগরিক সবার দায়িত্ব। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে ধীরে ধীরে তাদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ চলছে।

সরকারের অগ্রাধিকারের বিষয়ে তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

সভায় বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, এই মন্ত্রণালয় সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাই উন্নয়ন ও গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার ও ঘোষিত ৩১ দফা শুধু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়; এগুলো জনগণের সঙ্গে করা একটি সামাজিক চুক্তি। জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করলে একটি মানবিক, কল্যাণমুখী ও টেকসই রাষ্ট্র গঠন সম্ভব।

মতবিনিময় সভায় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও অধীনস্থ বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাধারা/এসআর