প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬, ০৬:৪১ বিকাল
ছবি: সংগৃহিত
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। বিকেল ৪টার পর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তাকে শপথ পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
একই অনুষ্ঠানে নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি অতিথি, কূটনীতিক, রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন। সংসদ সদস্যদের শপথের পর বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে তারেক রহমানকে সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হয়, যা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা পূরণ করে।
সাধারণত বঙ্গভবনের দরবার হলে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হলেও এবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর সিদ্ধান্তে সংসদ ভবনের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয়। আয়োজকরা জানান, জনগণের অংশগ্রহণ ও গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতীক হিসেবেই এই ব্যতিক্রমী স্থান নির্বাচন করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আজ সন্ধ্যার মধ্যেই নতুন মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবে নতুন সরকার।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসনে জয় পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এটি দেশের ইতিহাসে দলটির ষষ্ঠবারের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন। অন্যদিকে ৬৮টি আসন নিয়ে সংসদের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী; দলটির সংসদীয় নেতা নির্বাচিত হয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারের সামনে অর্থনীতি পুনর্গঠন, প্রশাসনিক সংস্কার ও জাতীয় ঐক্য জোরদার, এই তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। তবে বৃহৎ জনসমর্থন নিয়ে যাত্রা শুরু করায় সরকারের জন্য নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সুযোগও তৈরি হয়েছে।
এদিকে রাজধানীজুড়ে ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল সীমিত রাখা হয়। অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
নতুন প্রধানমন্ত্রীর শপথের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী শাসনকাল আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলো এবং নির্বাচিত সরকারের অধীনে বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় শুরু হলো।
বাংলাধারা/এসআর
