ইরানে হামলা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান চীনের, ইসরায়েলকে কড়া বার্তা
প্রকাশিত: মার্চ ০৩, ২০২৬, ১০:৩১ রাত
ছবি: সংগৃহিত
ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার তীব্র বিরোধিতা করে তাৎক্ষণিকভাবে সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে চীন। মঙ্গলবার ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার এর সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে এই বার্তা দেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, আলাপকালে ওয়াং ই স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, বলপ্রয়োগ কখনোই সমস্যার স্থায়ী সমাধান এনে দেয় না; বরং তা নতুন সংকটের জন্ম দেয় এবং দীর্ঘমেয়াদে গুরুতর পরিণতি ডেকে আনে। তার ভাষায়, সামরিক শক্তির প্রকৃত সার্থকতা যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, বরং যুদ্ধ প্রতিরোধে।
মঙ্গলবার ইরানের রাজধানী তেহরান ছাড়াও লেবাননের বৈরুত, বাহরাইনের মানামা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও কুয়েতে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই উত্তেজনার প্রভাব ইতোমধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়তে শুরু করেছে। জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন দেখা দিয়েছে। এসব প্রসঙ্গ তুলে ধরে ওয়াং ই বলেন, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সব বিরোধ সংলাপ ও কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। পরিস্থিতি শান্ত করতে চীন গঠনমূলক ভূমিকা অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি।
সংকট শুরুর পর থেকেই চীন সক্রিয় কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রেখেছে। সোমবার ইরান, ওমান ও ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ওয়াং ই। তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোকে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
এর আগে রোববার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এর সঙ্গেও ইরান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। তবে শনিবার থেকে ইরানে হামলা শুরুর পর এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এর সঙ্গে ওয়াং ই এর কোনো যোগাযোগ হয়নি বলে জানা গেছে।
শনিবার ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ চার ডজনের বেশি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটিতে চলমান হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০০ মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে মধ্যপ্রাচ্য নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে, যার প্রভাব বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি অভিঘাত তৈরি করবে।
বাংলাধারা/এসআর
