ঢাকা, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২

মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর ঢাকায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: মার্চ ০৩, ২০২৬, ১০:২৫ রাত  

ছবি: সংগৃহিত

দুই দিনের সরকারি সফরে ঢাকায় পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাত আটটার পর দিল্লি হয়ে তিনি ঢাকায় আসেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সফরটি মূলত রাজনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব বহন করলেও বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, মিয়ানমার পরিস্থিতি ও রোহিঙ্গা সংকট, এসব ইস্যুও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটও বৈঠকগুলোর আলোচ্যসূচিতে রয়েছে।

সফরসূচি অনুযায়ী, বুধবার (৪ মার্চ) পল কাপুর বৈঠক করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে। এদিন সন্ধ্যায় দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তার মতবিনিময়ের কথা রয়েছে।

সফরের শেষ দিন বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন তিনি। একইদিন সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।

ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই সফরের উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ কৌশলগত সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করা। সফরকালে সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর নতুন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। আলোচনায় থাকবে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে অভিন্ন স্বার্থ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়গুলো।

বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ এখন গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে। ফলে পল কাপুরের এই সফর কেবল আনুষ্ঠানিক নয়; বরং ভবিষ্যৎ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দিকনির্দেশনায় তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাধারা/এসআর