জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও মূল্যস্ফীতিতে বড় প্রভাব নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী
প্রকাশিত: এপ্রিল ২০, ২০২৬, ০৫:২৪ বিকাল
ছবি: সংগৃহিত
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে দেশের মূল্যস্ফীতির প্রধান কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। তিনি দাবি করেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ‘সহনীয়’ পর্যায়েই রাখা হয়েছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ-এর অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা-র এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
রুমিন ফারহানা তার প্রশ্নে দীর্ঘদিন ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতির বিষয়টি তুলে ধরে তা নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চান। জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা না করে দেশের মূল্যস্ফীতিকে মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মোট উৎপাদন খরচের মাত্র ৭ থেকে ৮ শতাংশ জ্বালানির পেছনে ব্যয় হয়। সেখানে ডিজেলের দাম ১৫ শতাংশ বাড়লেও সামগ্রিক উৎপাদন খরচে এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত।
পরিবহন খাতের উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, একটি বাস বা ট্রাক ২০০ কিলোমিটার চলতে যে পরিমাণ ডিজেল ব্যবহার করে, তাতে খরচ কিছুটা বাড়লেও সেই ব্যয় বিপুল পরিমাণ পণ্যের ওপর ভাগ হয়ে যায়। ফলে একক পণ্যের দামে এর প্রভাব খুব বেশি পড়ে না।
বিশ্ববাজারের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক দেশে জ্বালানির দাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত হয় এবং সেখানে দাম আরও বেশি হারে বেড়েছে। উদাহরণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রীর মতে, অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সে কারণেই সরকার আন্তর্জাতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘মডারেট’ বা নিয়ন্ত্রিতভাবে জ্বালানির দাম সমন্বয় করেছে।
বাংলাধারা/এসআর
