ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি অপরিবর্তনীয় নয়: বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: মার্চ ০৪, ২০২৬, ০২:১০ দুপুর  

ছবি: সংগৃহিত

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত বা অপরিবর্তনীয় নয়; প্রয়োজনে এতে সংশোধন, সংযোজন কিংবা বিয়োজনের সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, চুক্তিকে ‘হোলসেল নেগেটিভ’ বা ‘হোলসেল পজিটিভ’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বরং এটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের একটি বাস্তব কাঠামো।

বুধবার (৪ মার্চ) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ সাড়ে ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি। দেশটি থেকে প্রায় পৌনে তিন বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়। একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার। ফলে বাণিজ্যের পাশাপাশি বিনিয়োগ, ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতাও আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্বাক্ষরিত চুক্তি নিয়ে বৈঠকে কোনো বিশেষ আলোচনা হয়েছে কি না, এ প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি আলাদাভাবে আলোচনায় আসেনি। সামরিক বিষয় নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলেও তিনি জানান, কারণ সেটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতার বিষয় নয়।

চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থ যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি, এমন সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, যেকোনো দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতেই কিছু ধারা এক পক্ষের পক্ষে অনুকূল থাকে, আবার কিছু ধারা অন্য পক্ষের অনুকূলে যায়। আলোচনার মধ্য দিয়ে ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করাই লক্ষ্য। চুক্তিতে এমন অনেক ধারা রয়েছে, যেগুলোর ভিত্তিতে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, কোনো চুক্তিই ‘এন্ড অব লাইফ’ নয়। প্রত্যেক চুক্তিতেই প্রয়োজনে পুনর্বিবেচনা বা সংশোধনের সুযোগ থাকে। যদি কোনো ধারা পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দেয়, সে ক্ষেত্রে আলোচনার সুযোগ সবসময়ই উন্মুক্ত।

মার্কিন ট্যারিফ সংক্রান্ত সাম্প্রতিক আইনি অবস্থার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চতর আদালতে জরুরি ক্ষমতার আওতায় আরোপিত ট্যারিফের বৈধতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, সেটি একটি বিকাশমান পরিস্থিতি। বাংলাদেশ বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে।

ভিসা বন্ড প্রসঙ্গে তিনি জানান, এটি মূলত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিষয়। তবে বাংলাদেশ সবসময়ই চায় দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা যেন সহজ ও স্বচ্ছন্দে যাতায়াত করতে পারেন এবং কোনো অপ্রয়োজনীয় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়।

নতুন সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করতে আগ্রহী কি না, এ প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অবশ্যই নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে চায়। মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কিছু প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা দূর করা গেলে বাংলাদেশ আরও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারবে।

চুক্তি নিয়ে অযথা উদ্বেগ না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, কেউ যদি নির্দিষ্ট কোনো ধারা নিয়ে প্রশ্ন বা আপত্তি দেখেন, তা সরকারকে জানাতে পারেন। বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বার্থ সংরক্ষণ এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করাই এই চুক্তির মূল লক্ষ্য।

বাংলাধারা/এসআর