ঢাকা, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২

শুধু ফাইনাল নয়, ইংল্যান্ডের ভবিষ্যতও নির্ভর করছে এই ম্যাচে

স্পোর্টস্ ডেস্ক

 প্রকাশিত: মার্চ ০৫, ২০২৬, ০৮:৩৯ রাত  

ছবি: সংগৃহিত

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও ইংল্যান্ড। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচটি শুধু ফাইনালে ওঠার লড়াই নয়, ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনাও অনেকটা নির্ধারণ করে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। এর আগে ২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ভারতকে ১০ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল ইংল্যান্ড এবং পরে শিরোপাও জিতেছিল তারা। তবে ২০২৪ সালের বিশ্বকাপে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। সেবার সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ৬৮ রানে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে ভারত এবং শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিতে নেয়। ফলে এখন পর্যন্ত এই লড়াইয়ে দুই দলের জয়-পরাজয় সমান অবস্থায় রয়েছে। আজকের ম্যাচ তাই এক অর্থে আধিপত্যের নতুন হিসাবও নির্ধারণ করতে পারে।

তবে এবারের ম্যাচটি ইংল্যান্ডের জন্য আরও বড় গুরুত্ব বহন করছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি স্পোর্টসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সেমিফাইনালই আগামী দুই বছরে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের পথচলা কোন দিকে যাবে তা অনেকটাই নির্ধারণ করে দিতে পারে। ভারতকে হারিয়ে ফাইনালে উঠতে পারলে ইংল্যান্ডের সামনে তৃতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে দলটির ভেতরে চলা নানা প্রশ্ন ও সমালোচনারও সাময়িক জবাব মিলতে পারে।

বিশেষ করে আলোচনায় রয়েছেন ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। দায়িত্ব নেওয়ার পর শুরুটা বেশ সফল হলেও সাম্প্রতিক সময়ে তিন সংস্করণেই ইংল্যান্ড দলের পারফরম্যান্স হতাশাজনক। ফলে তার কোচিং ভবিষ্যত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ইংল্যান্ডের সাবেক অনেক ক্রিকেটারই ইতোমধ্যে দলের পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন। এমন অবস্থায় ভারতের বিপক্ষে জয় ম্যাককালামের জন্য স্বস্তির বার্তা বয়ে আনতে পারে, আর পরাজয় হলে তার কোচিং অধ্যায়ের ইতি ঘটার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

চাপের মুখে আছেন দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারও। বিশেষ করে অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক ব্যাটার জস বাটলার দীর্ঘদিন ধরেই ফর্মহীনতায় ভুগছেন। টি-টোয়েন্টিতে সর্বশেষ ১৫ ইনিংসে তার ব্যাট থেকে আসেনি কোনো অর্ধশতক; সর্বোচ্চ ইনিংস ৩৯ রান। এমনকি শেষ পাঁচ ইনিংসের কোনোটিতেই দুই অঙ্কের ঘর স্পর্শ করতে পারেননি তিনি। ২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও ২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই অভিজ্ঞ ব্যাটার তাই যেন ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছেন। ভারতের বিপক্ষে বড় কিছু করতে পারলে হয়তো আবারও নিজেকে প্রমাণের সময় পাবেন, অন্যথায় দল থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কা বাড়বে।

অন্যদিকে ভারতও এই ম্যাচে নামছে বাড়তি প্রেরণা নিয়ে। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ হওয়ায় সমর্থকদের প্রত্যাশাও তাদের ওপর অনেক বেশি। সূর্যকুমার যাদব, জাসপ্রীত বুমরাহদের মতো তারকারা সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে চাইবেন। তাছাড়া এই ম্যাচ জিততে পারলে ভারতের সামনে তৈরি হবে নতুন ইতিহাসের সুযোগ, টানা দ্বিতীয়বার এবং সব মিলিয়ে তৃতীয়বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারের ক্ষতও এখনো ভুলতে পারেনি ভারত। তাই ওয়াংখেড়ের এই সেমিফাইনাল দুই দলের জন্যই হয়ে উঠেছে মর্যাদা, ভবিষ্যত এবং ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ লড়াই।

বাংলাধারা/এসআর