ঢাকা, রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২

বিডিআর নাম ফিরিয়ে আনা হবে: তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০২৬, ০৭:৩৯ সকাল  

ছবি: সংগৃহিত

জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর পরিবর্তে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও ঐতিহ্যে জড়িত পুরোনো নাম বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) পুনর্বহাল করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে বিডিআরের সাবেক ইউনিফর্মও ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া ভবিষ্যতে যাতে আর কখনো পিলখানার মতো মর্মান্তিক ঘটনা না ঘটে, সে লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের দিনটিকে ‘শহীদ সেনা দিবস’, ‘সেনা হত্যাযজ্ঞ দিবস’ অথবা ‘জাতীয় শোক দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর র‌্যাডিসন ব্লু হোটেলে সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক সদস্য ও তাদের পরিবারের অংশগ্রহণে আয়োজিত ‘স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সুদৃঢ় আস্থা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংসদ নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষে সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক উপকমিটি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

তারেক রহমান বলেন, ২০০৯ সালে পিলখানায় বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পর পতিত, পরাজিত ও বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট শক্তি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত বিডিআরের নাম পরিবর্তন করে দেয়। শুধু নামই নয়, বাহিনীর ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও রংও বদলে ফেলা হয়। জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে এই ঐতিহাসিক নাম ও পরিচয় আবারও ফিরিয়ে আনা হবে।

তিনি জানান, অনুষ্ঠানের আগে কয়েকজন সাবেক জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা সেনাবাহিনী সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তার কাছে তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ গঠন, সেনা আইনের কিছু বিধিমালা সংস্কার ও পরিমার্জনের প্রস্তাব রয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জনগণের রায়ে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে সেনাবাহিনীর সাবেক ও বর্তমান সদস্যদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। সেই কমিটির সুপারিশ যাচাই-বাছাই করে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

সেনাবাহিনীর সঙ্গে নিজের পারিবারিক সম্পর্ক ও আবেগের কথাও তুলে ধরেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী আমার কাছে একটি বৃহত্তর পরিবারের মতো। আমি সেনানিবাসে বড় হয়েছি। ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়েছি। পরে দেখেছি, সেনাবাহিনীর প্রতি আমার মা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়ার গভীর আস্থা ও সম্মান ছিল। তিনি সব সময় বিশ্বাস করতেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী অপরিহার্য।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন,শহীদ জিয়াকে নিয়ে যেমন গণতান্ত্রিক জনগণ গর্বিত, তেমনি আমি ও আমার পরিবার বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীও তাকে নিয়ে গর্ব করে। সেনাবাহিনীকে ভিন্ন কাজে জড়ানো হলে তাদের মূল দায়িত্ব ব্যাহত হয়।

পিলখানা হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাঁবেদার ও অপশক্তির কবলে পড়ে শুধু গণতন্ত্রই হরণ হয়নি, একই সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বও হুমকির মুখে পড়েছিল। পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাকাণ্ডের দিন সেনাবাহিনী যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারেনি বা রাখতে দেওয়া হয়নি।

সেনাবাহিনীর গৌরব প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, গৌরব ফিরিয়ে দেওয়া যায় না,গৌরব অর্জন করতে হয় এবং ধারণ করতে হয়। সেনাবাহিনীর সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব সেনাবাহিনীর নিজেদেরই। তবে রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, বিএনপি সরকারে এলে সেনাবাহিনীকে কখনো রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। অতীতেও বিএনপি সেনাবাহিনীর সম্মান ক্ষুণ্ন করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না।

তিনি আরও বলেন, সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে, তবে রাজনীতিতে বিলীন হয়ে যাওয়া উচিত নয়। পেশাদারিত্ব যেন কোনোভাবেই রাজনীতির চাদরে আচ্ছন্ন না হয়, সে বিষয়ে সেনা কর্মকর্তা ও সদস্যদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর স্বাগত বক্তব্য দেন। আরও বক্তব্য রাখেন মেজর (অব.) মিজানুর রহমান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের এডিসি কর্নেল (অব.) হারুনুর রশিদ খান, মেজর (অব.) জামাল হয়দার, বিডিআরের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের সন্তান রাকিন আহমেদসহ সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ও সদস্যরা।

বাংলাধারা/এসআর