থাইল্যান্ডে আজ সংসদ নির্বাচন, সংবিধান সংশোধনে গণভোটও
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০২৬, ০৮:৪০ সকাল
ছবি: সংগৃহিত
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ থাইল্যান্ডে আজ রোববার জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই সঙ্গে সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে গণভোটও নেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল থেকে দেশজুড়ে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।
থাইল্যান্ডে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০২৩ সালে। সে সময় নির্বাচিত সংসদের মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সরকার পতন এবং সাংবিধানিক সংকটের কারণে চার বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই সংসদ ভেঙে দিয়ে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
আগাম নির্বাচনের পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ভূমিকা রাখে। চলতি বছরের মে মাসে প্রতিবেশী দেশ কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনার জেরে এক থাই সেনা নিহত হন। ওই ঘটনার পর জুন মাসে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পায়েতোংতার্ন সিনাওয়াত্রা কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। ফোনালাপে হুন সেনকে ‘আংকেল’ বলে সম্বোধন এবং থাই সেনাবাহিনী নিয়ে সমালোচনার বিষয়টি ফাঁস হলে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
এই ঘটনার জেরে সিনাওয়াত্রার দল ফিউ থাই পার্টির প্রধান জোটসঙ্গী ভূমজাইথাই পার্টি জোট থেকে সরে দাঁড়ায়। ফলে সরকার সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে আগস্ট মাসে থাইল্যান্ডের সাংবিধানিক আদালত রায় দেন, প্রধানমন্ত্রী পায়েতোংতার্ন সিনাওয়াত্রা নৈতিকতা ভঙ্গ করেছেন। আদালতের রায়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ হারান।
এরপর সেপ্টেম্বর মাসে ভূমজাইথাই পার্টির নেতা অনুতিন চার্নভিরাকুল ‘পোগ্রেসিভ পিপলস পার্টি’র সঙ্গে জোট গঠন করে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। তবে শর্ত ছিল সংসদ ভেঙে দিয়ে আগাম নির্বাচন আয়োজন করা। সে অনুযায়ী ডিসেম্বরে সংসদ ভেঙে দেওয়া হয় এবং আজকের নির্বাচনের পথ তৈরি হয়।
আজকের নির্বাচনে সংসদের নিম্নকক্ষের সদস্য নির্বাচন করা হবে। পাশাপাশি সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে জনগণের মতামত জানতে গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন ও গণভোট থাইল্যান্ডের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও শাসনব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাধারা/এসআর
