ঢাকা, রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২

শতাধিক গুম-খুনের অভিযোগে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিচার শুরু, আজ সাক্ষ্যগ্রহণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০২৬, ০৮:২৭ সকাল  

ছবি: সংগৃহিত

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সংঘটিত শতাধিক গুম ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিচারপ্রক্রিয়ায় আজ এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) তার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও সাক্ষ্যগ্রহণের কার্যক্রম নির্ধারিত রয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, আজকের শুনানিতে প্রথমেই মামলার প্রেক্ষাপট, অভিযোগের সারসংক্ষেপ ও প্রমাণ উপস্থাপনের রূপরেখা তুলে ধরে প্রসিকিউশন তাদের সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উপস্থাপন করবে। এরপর এক নম্বর সাক্ষীর জবানবন্দির মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে। এ মামলায় সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়াসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে গত ১৪ জানুয়ারি মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই আদেশে আজকের দিনটি সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য নির্ধারণ করা হয়।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা প্রথম অভিযোগটি ২০১১ সালের ১১ জুলাইয়ের। অভিযোগে বলা হয়, ওই দিন রাতে গাজীপুরের পুবাইল এলাকায় তার সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ তিনজনকে হত্যা করা হয়। দ্বিতীয় অভিযোগটি ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যবর্তী সময়ের, যেখানে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল ও মল্লিকসহ অন্তত ৫০ জনকে হত্যার দায় তার ওপর আরোপ করা হয়েছে। তৃতীয় অভিযোগেও একই সময়কালে আরও প্রায় ৫০ জনকে গুম ও হত্যার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা অভিযোগপত্র আদালত আমলে নেন। এর ধারাবাহিকতায় ২৩ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

আজ সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়ার মধ্য দিয়ে এই আলোচিত মামলার বিচারপ্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত গুম-খুনের ঘটনাগুলোর বিচার শুরু হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার ও মানবাধিকারকর্মীদের মধ্যেও নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

বাংলাধারা/এসআর