ভূমিধস জয়ের পথে তাকাইচি: আগাম নির্বাচনে নিরঙ্কুশ আধিপত্য ক্ষমতাসীন এলডিপির
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬, ০৮:৪১ সকাল
ছবি: সংগৃহিত
জাপানের রাজনীতিতে বড় ধরনের মোড় ঘুরিয়ে আগাম সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। তার নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং জোটসঙ্গীরা দেশটির নিম্নকক্ষের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) বিপুল সংখ্যক আসনে জয় পেয়েছে।
সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, ৪৬৫ আসনের সংসদে তাকাইচির জোট পেয়েছে ৩৫২টি আসন। এর মধ্যে এলডিপি এককভাবে দখল করেছে ৩১৬টি আসন, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতারও বেশি শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে। জোটসঙ্গী জাপান ইনোভেশন পার্টি পেয়েছে প্রায় ৩৬টি আসন। বিপরীতে, প্রধান বিরোধী দলগুলো মিলিয়ে পেয়েছে মাত্র ১১৩টি আসন।
দলীয় প্রধান হওয়ার মাত্র চার মাসের মাথায় জনসমর্থন যাচাইয়ের লক্ষ্যে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন তাকাইচি। তার আগে দুর্নীতি কেলেঙ্কারি, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে আগের দুই প্রধানমন্ত্রীর সময়ে এলডিপির জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। তবে বিশ্লেষকদের মতে, তাকাইচির ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, দৃঢ় নেতৃত্বের ভাবমূর্তি এবং সরাসরি বার্তা দেওয়ার কৌশল দলটির হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
প্রচণ্ড তুষারপাত ও প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেক এলাকায় পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত হলেও ভোট দিতে কেন্দ্রে হাজির হন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে তাকাইচির সমর্থন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সক্রিয় প্রচারণা নির্বাচনী ফলাফলে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই জয়ের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকেও অভিনন্দনের বার্তা আসতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে “একজন জনপ্রিয় ও শক্তিশালী নেতা” বলে উল্লেখ করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এই ফলাফলকে জাপানের রাজনীতিতে “ঐতিহাসিক মুহূর্ত” বলে অভিহিত করেছেন।
নির্বাচনী ইশতেহারে তাকাইচি অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করা, কর কাঠামো ও সরকারি ব্যয় নীতিতে পরিবর্তন আনা এবং জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে সমালোচকরা সতর্ক করে বলছেন, কর কমানো এবং একযোগে সরকারি ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনা জাপানের ঋণনির্ভর অর্থনীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
সব মিলিয়ে, আগাম নির্বাচনে এই বড় জয় প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে তার রক্ষণশীল নীতি ও রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্ত ভিত দিল। একই সঙ্গে জাপানের রাজনীতি ও অর্থনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ কোন দিকে যাবে, তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বাংলাধারা/এসআর
