ভোটের ঠিক ব্যয়ের চাপের কথা জানিয়ে ঢাকা-১৮ থেকে সরে দাঁড়ালেন মাহমুদুর রহমান মান্না
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬, ০৮:৩৭ সকাল
ছবি: সংগৃহিত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ আসন ঢাকা-১৮ থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান, যা নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
ফেসবুক পোস্টে মান্না জানান, বর্তমানে তিনি বগুড়ায় অবস্থান করছেন এবং ঢাকা-১৮ আসনে নির্বাচন করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। এই বাস্তবতা বিবেচনা করেই তিনি ঢাকা-১৮ আসন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
নিজের পোস্টে তিনি লেখেন,
“এখন আমি বগুড়ায়। একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ এবং বগুড়া-২ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। ঢাকা-১৮ একটি বিশাল নির্বাচনী এলাকা। এর অন্তর্গত সাড়ে সাতটি থানা এবং সাড়ে ছয় লক্ষের মতো ভোটার এখানে। নির্বাচন এতই ব্যয়বহুল যে তা নির্বাহ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এই প্রেক্ষিতে আমি ঢাকা-১৮-এর নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার এই সিদ্ধান্তে হয়তো অনেকে মনে কষ্ট পাবেন। তাদের কাছে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।”
ঢাকা-১৮ আসনটি রাজধানীর উত্তরা, খিলক্ষেত, কুড়িল, উত্তরখান, দক্ষিণখান ও তুরাগ এলাকা নিয়ে গঠিত। শুরু থেকেই এই আসনে মান্নার মনোনয়নপত্র বৈধ ছিল এবং তিনি এখানে একজন উল্লেখযোগ্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন। তবে শেষ মুহূর্তে তার সরে দাঁড়ানোর ঘোষণায় নির্বাচনী সমীকরণে পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা-১৮ আসনে বর্তমানে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ আশরাফুল হক এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী আরিফুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
অন্যদিকে, মাহমুদুর রহমান মান্না বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসন থেকে নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকছেন। এই আসনে শুরুতে ঋণখেলাপির অভিযোগে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হলেও পরে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করে তিনি প্রার্থিতা ফিরে পান। বগুড়া-২ আসনেও তার প্রার্থিতা ঘিরে নানা নাটকীয়তা দেখা গেছে। প্রথমে বিএনপি এই আসনে মান্নাকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিলেও পরবর্তীতে তারা নিজেদের দলীয় প্রার্থী হিসেবে মীর শাহে আলমকে মনোনয়ন দেয়। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামান।
ঢাকা-১৮ থেকে সরে দাঁড়ালেও বগুড়া-২ আসনে মান্নার অবস্থান এবং সেখানে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী রূপ নেয়, তা এখন ভোটের শেষ মুহূর্তে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে।
বাংলাধারা/এসআর
