ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে শেষ হলো প্রচার-প্রচারণা

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬, ০৯:৪২ সকাল  

ছবি: সংগৃহিত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের সব ধরনের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে। ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টার সঙ্গে সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারের পর্দা নামে। এর মধ্য দিয়ে প্রায় ২০ দিনব্যাপী সরগরম নির্বাচনী মাঠে শুরু হলো নীরব সময়।

গত ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই নির্বাচনী প্রচারে দেশজুড়ে জনসভা, পথসভা, গণসংযোগ, পোস্টার-ব্যানার ও মাইকিংয়ে মুখর ছিল রাজপথ। তবে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শুরুর আগের ৪৮ ঘণ্টা কোনো প্রার্থী বা রাজনৈতিক দল প্রচার চালাতে পারে না। সে অনুযায়ী নির্ধারিত সময়েই প্রচার কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) একযোগে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। সেদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ হবে। দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে ভোট নেওয়া হবে।

তবে একটি আসনে ভোট হচ্ছে না। গত ২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি এবং শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মৃত্যুবরণ করায় ওই আসনের নির্বাচন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

নির্বাচন কমিশনের রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫-এর ১৮ ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ভোটগ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিনের তিন সপ্তাহের আগে কোনো প্রচার শুরু করা যাবে না এবং ভোটের আগের ৪৮ ঘণ্টা আগে সব ধরনের প্রচার বন্ধ করতে হবে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, আইন অনুযায়ীই ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা বন্ধ হয়েছে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল। সব মিলিয়ে প্রার্থী রয়েছেন ২ হাজার ৩৪ জন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৫ জন। সারা দেশে ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৪২ হাজার ৭৭৯টি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন।

দলভিত্তিক প্রার্থীর সংখ্যায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে বিএনপি। দলটির প্রতীক ‘ধানের শীষ’ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৯১ জন প্রার্থী। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রার্থী দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ,‘হাতপাখা’ প্রতীক নিয়ে তাদের প্রার্থী ২৫৮ জন। জামায়াতে ইসলামীর ২২৯ জন প্রার্থী লড়ছেন ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে। জাতীয় পার্টির ‘লাঙ্গল’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৯৮ জন প্রার্থী। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে রয়েছেন ৩২ জন প্রার্থী। আর স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ৭৬ জন নির্বাচন করছেন ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে।

প্রচার শেষ হওয়ায় এখন ভোটারদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়। সব প্রস্তুতি শেষে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন তাকিয়ে আছে ভোটের দিনের দিকে, শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।

বাংলাধারা/এসআর