ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২

ভোটের ছুটিতে ঘরমুখো মানুষের ঢল, বাস সংকট ও বাড়তি ভাড়ায় চরম ভোগান্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬, ১১:০৯ দুপুর  

ছবি: সংগৃহিত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে শিল্পাঞ্চলে ছুটি শুরু হওয়ায় রাজধানী ঢাকা থেকে গ্রামে ফেরার মানুষের ঢল নেমেছে। এতে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বাস সংকটের সুযোগে কয়েকগুণ বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে পরিবহন শ্রমিকদের বিরুদ্ধে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে এবং অতিরিক্ত ভাড়া গুনে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ঘরমুখো যাত্রীরা।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক ঘুরে দেখা গেছে, আব্দুল্লাহপুর, কলেজগেট, গাজীপুরা ও গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় সড়কের দুই পাশে শত শত যাত্রী বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন। মহাসড়কে যানবাহন চলাচল ধীরগতির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে কলেজগেট ও গাজীপুরা এলাকায় যানজট তীব্র আকার ধারণ করেছে। কোথাও কোথাও দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহনের কারণে কার্যত সড়ক অচল হয়ে পড়ে।

যাত্রীদের অভিযোগ, আন্তঃজেলা ও অন্তঃজেলা বাসগুলো বাড়তি আয়ের আশায় স্বাভাবিক রুট ছেড়ে একাধিক ট্রিপ মারছে। এতে নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। অনেক বাসস্ট্যান্ডে বাসের তুলনায় যাত্রীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ যেতে যেখানে সাধারণত বাসভাড়া ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, সেখানে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। বাস না পেয়ে অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে ট্রাকে উঠছেন। এসব ট্রাকে জনপ্রতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

ময়মনসিংহগামী যাত্রী আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ যেতে সাধারণত ২৫০ টাকা ভাড়া লাগে। আজ সকালে বাসে উঠতে গিয়ে ৬০০ টাকা চাইলো। বাধ্য হয়ে দিতে হয়েছে। এত ভোগান্তি আগের ঈদেও দেখিনি।’

একই অভিযোগ করেন গার্মেন্টকর্মী রাবেয়া খাতুন। তিনি বলেন, ‘ভোটের জন্য ছুটি দিয়েছে, কিন্তু বাসই তো পাচ্ছি না। সকাল থেকে দাঁড়িয়ে আছি। এখন মনে হচ্ছে ট্রাকে উঠতে হবে। সেখানেও ৪০০ টাকা নিচ্ছে। বাস কম, যাত্রী বেশি, এই সুযোগে সবাই ভাড়া বাড়াচ্ছে।’

এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে সরকার সাধারণ ও বিশেষ ছুটি ঘোষণা করেছে। সরকারের ঘোষণায় ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচন দিবস ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি থাকবে, যা আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল।

এ ছাড়া শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ১০ ফেব্রুয়ারি বিশেষ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ছুটির প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি বুধ ও বৃহস্পতিবার সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নির্বাচনকালীন নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

ছুটি শুরু হতেই ঘরমুখো মানুষের এই চাপ আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাধারা/এসআর