ভারত ম্যাচে পাকিস্তানের ইউটার্ন, প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার লোকসান থেকে রক্ষা পেল আইসিসি
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬, ১১:২৪ দুপুর
ছবি: সংগৃহিত
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক আকর্ষণ। এই একটি ম্যাচ থেকেই সর্বোচ্চ রাজস্ব আয় করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। তবে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ ম্যাচ বয়কটের হুমকি দেওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়তে যাচ্ছিল বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থাটি। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের অবস্থান পরিবর্তনে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে আইসিসি।
অনেক নাটকীয়তার পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ভারত ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। ফলে সূচি অনুযায়ী আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে মুখোমুখি হচ্ছে ক্রিকেটের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান। এই সিদ্ধান্তের ফলে আইসিসি প্রায় ১৭ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য লোকসান থেকে রক্ষা পেয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা।
আইসিসি ও পিসিবির মধ্যে লাহোরে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় পাকিস্তান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের ক্রিকেট দলকে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার অনুমতি দেয়। এর আগে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ক্রিকেট বোর্ড চিঠির মাধ্যমে পিসিবিকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানায় বলে জানা গেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান যদি ম্যাচটি বয়কট করত, তাহলে সম্প্রচার স্বত্ব, টিকিট বিক্রি (গেট মানি) ও স্পন্সরশিপ খাত মিলিয়ে আইসিসির মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াত প্রায় ১৯৮৫ কোটি রুপি। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত এক সূত্র বলেন, ‘ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে ব্রডকাস্টারদের বড় অঙ্কের ক্ষতি হতো। একই সঙ্গে গেট মানি ও স্পন্সরশিপ থেকে প্রত্যাশিত রাজস্বও হাতছাড়া হয়ে যেত।’
বিশ্বকাপের যেকোনো আসরে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচই থাকে সবচেয়ে বেশি দর্শক আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে। টেলিভিশন সম্প্রচার, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, বিজ্ঞাপন ও স্টেডিয়ামের টিকিট বিক্রিতে এই ম্যাচই আইসিসির আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচিত।
পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়,
‘একাধিক বৈঠক থেকে প্রাপ্ত ফলাফল এবং বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর অনুরোধের প্রেক্ষিতে পাকিস্তান সরকার জাতীয় ক্রিকেট দলকে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচে অংশগ্রহণের অনুমতি দিয়েছে।’
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই ইউটার্ন শুধু আইসিসির আর্থিক ক্ষতি ঠেকায়নি, বরং বিশ্বকাপের প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্য ও দর্শকদের প্রত্যাশা রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এখন ক্রিকেটপ্রেমীরা বহুল প্রতীক্ষিত ভারত-পাকিস্তান মহারণ দেখার অপেক্ষায়।
বাংলাধারা/এসআর
