ঢাকা, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন দেশ গঠনের ঐতিহাসিক সুযোগ: তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬, ০৩:৫৩ দুপুর  

ছবি: সংগৃহিত

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দেশ গঠনের নির্বাচন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এটি এমন একটি নির্বাচন, যার জন্য বাংলাদেশের মানুষ গত ১৬ বছর ধরে অপেক্ষা করছে। এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতা বদলের নয়, বরং মানুষের রাজনৈতিক অধিকার ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার নির্বাচন।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডির কলাবাগান মাঠে ঢাকা-১০ আসনের বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা-১০ আসনে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকপ্রার্থী শেখ রবিউল আলম রবি।

তারেক রহমান বলেন, বিগত ১৬ বছর ধরে আমরা নির্বাচনের নামে তামাশা দেখেছি। আপনারা কি কেউ সেই তথাকথিত নির্বাচনগুলোতে ভোট দিতে পেরেছেন? বাংলাদেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। আজ সেই সময় এসেছে, যে নির্বাচনে মানুষ নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবে।

তিনি বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ শুধু রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে না, বরং এটি হতে হবে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের নির্বাচন। নির্বাচন হবে, সরকার আসবে, এটাই শেষ কথা নয়। জনগণের জীবনমান বদলাতে না পারলে রাষ্ট্র পরিচালনার কোনো মূল্য নেই, বলেন তিনি।

বিএনপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, শুধু প্রতিপক্ষের সমালোচনা করে রাজনীতি করলে জনগণের কোনো উপকার হয় না। জনগণের উপকার তখনই হবে, যখন একটি রাজনৈতিক দল বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও কর্মসূচি নিয়ে জনগণের সামনে হাজির হবে এবং জনগণ সেই পরিকল্পনায় আস্থা রেখে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেবে।

নারী ও তরুণদের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একমাত্র বিএনপির কাছেই নারীদের শিক্ষা, ক্ষমতায়ন ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। একইভাবে বেকার তরুণ ও যুবসমাজকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার কর্মসূচিও একমাত্র বিএনপির রয়েছে।

বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোটি কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। বিএনপির পরিকল্পনা রয়েছে কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করার, যাতে তারা সরাসরি রাষ্ট্রীয় সহায়তা পায়। একইভাবে দেশের সব মায়েদের জন্য চালু করা হবে ফ্যামিলি কার্ড, যাতে তারা সামাজিক সুরক্ষা পায়।

স্বাস্থ্য খাত নিয়ে বক্তব্যে তারেক রহমান জানান, বিএনপি সরকার গঠন করলে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। এসব স্বাস্থ্যকর্মী গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেবেন। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে প্রান্তিক জনগণও স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আসবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের মসজিদ, মাদ্রাসার ইমাম, ধর্মীয় গুরু ও মানবিক জীবনযাপনকারী ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে একটি সম্মানজনক ভাতা ও সামাজিক মর্যাদার ব্যবস্থা করা হবে।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, গত ১৬ বছরে বহু মেগা প্রকল্প হয়েছে, আর মেগা প্রকল্প মানেই মেগা দুর্নীতি। অথচ সাধারণ মানুষের জীবনে কোনো পরিবর্তন আসেনি। গ্রামগঞ্জের হাসপাতালে ওষুধ নেই, ডাক্তার নেই, স্কুল-কলেজ ভেঙে পড়েছে, রাস্তাঘাট নষ্ট হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, পৃথিবীর বহু দেশ একসময় বাংলাদেশের চেয়েও খারাপ অবস্থায় ছিল। কিন্তু তারা পরিশ্রম করেছে, সঠিক পরিকল্পনা নিয়েছে এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করেছে। তারা যদি পারে, আমরা কেন পারব না? ইনশাল্লাহ, বাংলাদেশও পারবে।

নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, একটি মহল নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। বিভিন্নভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, বিশেষ করে মা-বোনদের নিয়ে অবাস্তব ও বায়বীয় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। বিএনপি এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দেয় না, যা বাস্তবায়নযোগ্য নয়।

তিনি আরও বলেন, আমরা দেখেছি, নকল ব্যালটের সিল বানাতে গিয়ে একটি মহলের লোক ধরা পড়েছে। তাই সবাইকে সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে।

ঢাকা-১০ আসনের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, এই এলাকার মানুষের সঙ্গে আমার আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। তাই এখানে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে শেখ রবিউল আলম রবিকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, রবি নির্বাচিত হলে এবং বিএনপি সরকার গঠন করলে, এলাকার মানুষের সামনে দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আমি ব্যক্তিগতভাবেও কাজ করব।

বাংলাধারা/এসআর