ঢাকা, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২

বগুড়ায় নীলসাগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুতি, তদন্তে তিন পর্যায়ের অবহেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

 প্রকাশিত: মার্চ ৩১, ২০২৬, ১২:০৪ দুপুর  

ছবি: সংগৃহিত

বগুড়ায় নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুতির ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে একাধিক স্তরে দায়িত্বে অবহেলার চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেলওয়ের প্রচলিত বিধিমালা লঙ্ঘন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতাই দুর্ঘটনার মূল কারণ।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে রাজশাহী পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ফরিদ আহম্মেদ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তদন্তে দেখা গেছে, স্টেশন মাস্টার, লোকোমাস্টার (চালক) এবং রেলওয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মধ্যে সমন্বয়হীনতা ও গাফিলতির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে, স্টেশন মাস্টার কর্তৃক চালককে প্রয়োজনীয় সতর্কবার্তা না দেওয়া এবং নির্ধারিত ‘ওপিটি ফর্ম’ ইস্যু না করাকে বড় ত্রুটি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ফর্ম প্রদান করা হলে চালক আগেই জানতে পারতেন যে নির্দিষ্ট স্থানে কাজ চলছে এবং সেখানে গতি নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।

এছাড়া, ঘটনাস্থলে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পক্ষ থেকে সঠিক দূরত্বে লাল পতাকা প্রদর্শন না করাও গুরুতর অবহেলা হিসেবে উঠে এসেছে। একইসঙ্গে লোকোমাস্টারেরও পর্যাপ্ত সতর্কতার অভাব ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

রেলওয়ে জিএম ফরিদ আহম্মেদ বলেন, “যদি স্টেশন মাস্টার নিয়ম অনুযায়ী ফর্ম ইস্যু করতেন, তাহলে চালক আগে থেকেই সতর্ক থাকতে পারতেন। আবার কাজ চলাকালে নির্ধারিত গতিসীমা-১০ বা ২০ কিলোমিটার-মেনে চলা বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু এসব নিয়ম মানা হয়নি।”

তিনি আরও বলেন, “ঘটনাস্থলে রেললাইনে কাজ চলছিল, কিন্তু সতর্কতামূলক পতাকা নির্ধারিত দূরত্বে স্থাপন করা হয়নি। যদিও চালকেরও দায়িত্ব ছিল সামনে থাকা সংকেত খেয়াল করা, সেই জায়গায়ও ঘাটতি ছিল।”

গত ১৮ মার্চ দুপুরে বগুড়ার সান্তাহার জংশন অতিক্রম করার পরপরই বাগবাড়ি এলাকায় নীলসাগর এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ট্রেনটির ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয় এবং অন্তত ৬৬ জন যাত্রী আহত হন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এই দুর্ঘটনার ফলে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকা ও রাজশাহীর রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বাতিল করতে হয় ৬টি ট্রেনের যাত্রা, আর ৭টি ট্রেনের সময়সূচিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে।

ঘটনার দিনই পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। যান্ত্রিক প্রকৌশলী মইনউদ্দিন সরকারের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি তদন্ত শেষে প্রতিবেদন রেলওয়ের মহাপরিচালকের কাছে জমা দিয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে শাস্তির ধরন নির্ধারণে রেলওয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী পৃথক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বাংলাধারা/এসআর