নতুন মন্ত্রিসভার শপথ না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্বে থাকছেন বর্তমান উপদেষ্টারা
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬, ০৮:৪৯ রাত
ছবি: সংগৃহিত
আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন সরকার গঠনের পথ খুলবে এবং বিদায় নেবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তবে সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ গ্রহণ না করা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন বর্তমান উপদেষ্টারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই সরকার পরিবর্তন ঘটে না; বরং একটি নির্দিষ্ট সাংবিধানিক ধাপ অনুসরণ করা হয়। প্রথমে নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশ করে এবং নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করে। এরপর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। সংসদ গঠনের পর সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বা জোট তাদের সংসদ নেতা নির্বাচন করে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তখন রাষ্ট্রপতি তাকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।
সংসদে মোট ৩০০ আসনের মধ্যে কমপক্ষে ১৫১টি আসন পেলে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের সুযোগ পায়। যদি কোনো দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায়, তবে সর্বাধিক আসনপ্রাপ্ত দলকে সরকার গঠনের আহ্বান জানানো হয় এবং প্রয়োজন হলে অন্য দলের সমর্থন নিতে হয়।
নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় বঙ্গভবনে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রথমে সরকারপ্রধানকে এবং পরে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য মন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করান। পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথের মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং পূর্ববর্তী প্রশাসনিক কাঠামোর মেয়াদ শেষ হয়।
নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হলেই বর্তমান উপদেষ্টাদের দায়িত্ব শেষ হবে। তিনি জানান, এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা না পেলেও পূর্ব অভিজ্ঞতা অনুযায়ী তিনি মনে করেন নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেওয়ার দিনই তাদের কার্যকাল শেষ হবে। তিনি আরও বলেন, “যতদিন পর্যন্ত আমাকে দায়িত্ব ছাড়তে বলা না হবে, ততদিন অফিসের কাজ চালিয়ে যাব।”
তিনি ধারণা দেন, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রকাশ হতে পারে, যদিও এটি নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, আইনগতভাবে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে থাকলেও নৈতিক কারণে নির্বাচনের পর নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার থেকে বিরত থাকবেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সেবায় কাজ করার সুযোগ পাওয়া যে কোনো নাগরিকের জন্য সৌভাগ্যের বিষয় এবং তিনি সেই সুযোগ পাওয়ায় কৃতজ্ঞ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদের মতে, নির্বাচনে যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে তারাই সরকার গঠন করবে এবং রাষ্ট্রপতি তাদের সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন। নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সরকারের যাত্রা শুরু হবে এবং বর্তমান উপদেষ্টাদের দায়িত্বের অবসান ঘটবে।
এই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সাধারণত কয়েক দিন সময় লাগে। তাই নির্বাচন শেষ হলেও নতুন সরকার শপথ না নেওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বর্তমান উপদেষ্টারাই দায়িত্বে থাকবেন।
বাংলাধারা/এসআর
